বগুড়ার শেরপুরে এক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থী
শেরপুর( বগুড়া) প্রতিনিধি
এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে জনকল্যাণমূলক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন ত্রিয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজী ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুর শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত ‘জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠান’-এ প্রার্থীরা ওই অঙ্গীকার করেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বগুড়া জেলা ও শেরপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে বেলা পৌনে দুইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে চারজনের মধ্যে তিন জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও একজনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজনের শেরপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি নিমাই ঘোষ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি মিজানুর রহমান ও শেরপুর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী। অনুষ্ঠানে সুজনের বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন, সংগঠক চপল মিঞ্রা, সুজন বন্ধুর জেলা শাখার সমন্বয়কারী শামসেদ মুর্র্শিদা সুমা বক্তব্য রাখেন। এতে শেরপুর ও ধুনট উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে এই সংসদীয় আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী অংশ নিলেও একজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী। এরমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দলীয় প্রার্থী আলহাজ¦ দবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মীর মাহমুদুর রহমান চুন্নু ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির শিপন কুমার রবিদাস উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আলহাজ¦ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু অংশ নেন। তাঁরা সবাই সাত মিনিট করে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী আলহাজ¦ দবিবুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশ ও জাতীর কল্যাণে ইতিমধ্যে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। জয়ী হলে সেই লক্ষ্যেই কাজ করবো। তবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মানবিক ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এছাড়া স্থানীয় নানাবিধ সমস্যাগুলো সমাধানেও পরিকল্পিতভাবে কাজ করবেন তিনি।
বিএনপি প্রার্থীর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, এই এলাকার উন্নয়নে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করবেন তার দল। এছাড়া সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে শেরপুর ও ধুনট উপজেলার উন্নয়নে কাজ করবেন বলেও দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মীর মাহমুদুর রহমান বলেন, শেরপুর শহরে একটি ফ্লাইওভার, গ্যাস সুবিধা প্রদানসহ বাঙালী ও করতোয়া নদীতে একাধিক ব্রীজ নির্মাণ করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।
কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী শিপন কুমার রবিদাস বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। নির্বাচনে জয়ী হলে সংসদে জনগণের দাবি তুলে ধরব এবং জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবো।
অনুষ্ঠানে সব প্রার্থীরাই তাঁদের বক্তৃতায় স্থানীয় সমস্যা রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজী ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন বলে দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জনগণের মুখোমুখি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভোটাররা প্রত্যেক প্রার্থীকে তিনটি করে প্রশ্ন করেন। প্রার্থীরা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন। শেষে উপস্থিত ভোটাররা সৎ, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তাঁরা।