শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতে আবার ফিরছেন রাজনৈতিক নেতারা

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩৭ ।
দেশের খবর
পঠিত হয়েছে ১৩ বার।

বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও রাজনৈতিক নেতাদের ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। আগে রাজনৈতিক নেতাদের বাদ দিয়ে জারি করা পরিপত্র বাতিল করে নতুন পরিপত্র তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রাথমিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ম্যানেজিং কমিটিতে বিদ্যোৎসাহী সদস্য, দাতা সদস্য, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের যুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব পদে মূলত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা কিংবা তাদের অনুসারীরাই থাকেন। ফলে অঘোষিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে আবারও রাজনৈতিক নেতাদের পদায়নের নির্দেশনা এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

 

এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত শিথিল হতে পারে। সভাপতি হতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাসের নিয়ম বাতিল করার চিন্তা করছে সরকার।

 

জানা গেছে, সর্বশেষ পরিপত্রে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি হতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাসের কথা বলা হয়েছে। তবে এ নিয়ম বাতিল করতে যাচ্ছে সরকার। প্রবিধানমালা সংশোধন করে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হতে পারে। এতে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা আগের নিয়মে ফিরে যাবে। সে অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হতে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রযোজ্য হবে না।

 

শিগগির এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হবে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

 

সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক হওয়ার নিয়ম আর থাকবে না। ২০২৪ সালের আগের নিয়ম বহাল হবে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রযোজ্য হবে না।

 

এদিকে ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতাও আর থাকছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, ইউএনও, ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার হয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানের কাছে যাবে তিনজনের নামের তালিকা। সেখান থেকে একজন হবেন কমিটির প্রধান বা সভাপতি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা বোর্ড।