বগুড়ার শেরপুরে চাঁদার টাকা না পেয়ে একটি কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারপিট

শেরপুর( বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৫ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ৪৪ বার।

বগুড়ার শেরপুরে চাঁদার টাকা না পেয়ে একটি মেটাল কোম্পানির বেশকয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেধড়ক মারপিট করা হয়েছে। এরমধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার (০২এপ্রিল) বেলা এগারোটার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর-রাজাপুর এলাকায় গড়ে ওঠা প্রমিজাল মেটাল নামের ওই প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় কোম্পানির প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে স্থানীয় ইটখোলার মালিক ফিরোজ হোসেন, তার ছেলে আব্দুর রহিম, রাকিবুল ইসলামসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ১০-১২জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এদিকে এই চাঁদা দাবির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার দিনগত রাত সাড়ে আটটায় শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডস্থ শেরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর-রাজাপুর নামক স্থানে ৫২০শতক জমি ক্রয় করেন জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল গ্রামের কামাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তিনি সেখানে প্রমিজাল মেটাল নামের একটি কোম্পানি গড়ে তুলেন। কোম্পানির প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, তাদের কোম্পানি সংলগ্ন একটি ইটখোল রয়েছে। যার মালিক ফিরোজ আহম্মেদ। তিনি কোম্পানির কেনা জমিগুলো লিজ দিতে বলেন। কিন্তু কোম্পানির মালিক কামাল হোসেন লিজ দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা তার নিকট ত্রিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এরই জেরে গত ২ এপ্রিল ফিরোজ হোসেন ও তার ছেলে আ. রহিমসহ রাবিকুলসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক ওইসব জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে খবর পেয়ে কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কোম্পানির লোকজনকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এরমধ্যে প্রমিজান মেটাল কোম্পানির কর্মী ইয়াসিন আরাফাত জিহাদ ও আলাউদ্দিন গুরুতর আহত হন। এছাড়া আলাউদ্দিনের নিকট থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ফিরোজ হোসেন। তিনি এই ঘটনাটিকে সাজানো নাটক বলে অখ্যায়িত করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তার ইটখোলা উচ্ছেদ করার জন্যই এই কল্পিত ঘটনা তৈরী করা হয়েছে বলে দাবি করেন। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দিন এই ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দাবি করেন তিনি।