বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোট জয়ী বাদশা
স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট অর্জন করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। অন্যদিকে, ফুলকপি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার পান মাত্র ৫২৬ ভোট।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৫১টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে (একটি পোস্টাল ব্যালটসহ) ভোট পড়েছে ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোটদানের হার ছিল ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ।
ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা চলে। দিনের শুরুতে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বৃদ্ধি পায়।
তবে ভোট চলাকালে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। তাঁর অভিযোগের মধ্যে ছিল কেন্দ্র দখল, আগাম ফলাফলের কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং নারী এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো। তিনি আরও দাবি করেন, দুপুরের পর বিরোধী পক্ষের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে, ফলে নির্বিঘ্নে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে।
ফল ঘোষণার আগেই তিনি এক বিবৃতিতে এই নির্বাচনকে “ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ভোট জালিয়াতি” বলে উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পরও তিনি নির্বাচন শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে থাকার কথা জানান।
ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রে বিশ্বাস থেকেই তাদের এই নির্বাচনে থাকা, পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধীদের মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরতে চেয়েছেন।
অন্যদিকে, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি এবং যেসব ছোটখাটো সমস্যা ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে।