যৌতুকের দাবিতে নওগাঁয় গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যা ; স্বামীসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের
নওগাঁ প্রতিনিধি
যৌতুকের দাবিতে নওগাঁর মহাদেবপুরে উপজেলার উত্তরগ্রাম সুলতানপুর গ্রামে রেহেনা আক্তার তুলি (২০) নামের এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হতা করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে গৃহবধুকে হত্যার পর মরদেহ ঘরে ঝুলিয়ে রেখে প্রচার করে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। এর কিছু পর তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় আজ শুক্রবার সকালে নিহত রেহানা আক্তার এর স্বামী রতন হোসেন, দেবর শহিদুল ইসলাম, সাগর হোসেন ও তার শাশুড়ি জহুরা বেগমকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে তার মামা মিলন হোসেন।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেহেনা আক্তার তুলির মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।
নিহতের মামা মিলন হোসেন জানান, তিন বছর আগে নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের সোহেল রানার মেয়ের রেহেনা তেতুলির সাথে মহাদেবপুর উপজেলার উত্তর গান সুলতানপুর গ্রামের কাসেম আলীর ছেলে রতন হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে হুসাইন নামের দু্ই বছর বয়সের একটা বাচ্চা রয়েছে। বিয়ের পর থেকে মোটা অংকের যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন করে আসছিল তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা ।
নিহতের মামা জানান, মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার অসুস্থ বাবা সোহেল রানা ইতোমধ্যে ৮০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে পরিশোধ করেছে। এরপরেও রতন মিয়ার যৌতুকের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আরো টাকার জন্য প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন করত। গত মাস খানেক ধরে আবারো যৌতুকের জন্য তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে চাপ দেয় এবং রেহেনা আক্তার তুলিকে নির্যাতন শুরু করে। শেষ পর্যন্ত যৌতুকের দাবী মেটাতে না পারায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজমিস্ত্রি রতন হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে মারপিট করলে ঘটনাস্থলে মারা যায় রেহেনা আক্তার তুলি। এরপর বাড়ি সদস্যরা মিলে রেহানা আক্তার তুলির মরদেহ গলায় ওড়না পেচিয়ে ঘরে ঝুলিয়ে রাখে। পরে গ্রামবাসীদের বলে স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় রেহেনা আক্তার তুলি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
মহাদেবপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, গ্রামবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই নিহত রেহানা আক্তার তুলির মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের জন্য আজ শুক্রবার সকালে নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওইদিন দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে পুলিশ দাফনের জন্য মরদেহ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ওসি জানান, এ ব্যাপারে নিহতের মামা মিলন হোসেন বাদী হয়ে নিহত রেহানা আক্তার তুলির স্বামী রতন হোসেন, তার দুই ভাই সাগর হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও তাদের মা জহুরা বেগমকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।