মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন প্রবাসী এই শিক্ষাবিদ
মানবিকতার নীরব কারিগর আরেফিন খান রন্জু
স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়া জেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামের সন্তান আরেফিন খান (রন্জু) মানবিকতা, সমাজসেবা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন নিজ এলাকায়। প্রবাসে সফলতা অর্জনের পরও তিনি ভুলে যাননি নিজের শিকড়, গ্রামের মানুষ এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ।
তাঁর পিতা মোঃ রহমতুল্লাহ খান একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা (নায়েব)। ছোটবেলা থেকেই পরিবার থেকে সততা, মানবিকতা ও সমাজের জন্য কাজ করার শিক্ষা পেয়েছেন রন্জু। সেই শিক্ষাকেই তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করে চলেছেন।
সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা সম্পন্ন করে বর্তমানে তিনি শিক্ষকতা ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি ইংল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান “এডরাক লিমিটেড”-এর পরিচালক, “ওয়ান স্পাইস ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট”-এর পরিচালক এবং কাপলান ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউটের লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশী ও ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অধিকারী হলেও দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা সবসময়ই দৃশ্যমান।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আরেফিন খান রন্জু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নীরবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, দরিদ্র মানুষের সহায়তা, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক উদ্যোগে তাঁর অবদান এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত প্রশংসিত।
বিশেষ করে পবিত্র রমজান, ঈদ কিংবা দুর্যোগকালীন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাঁকে সবসময় এগিয়ে আসতে দেখা যায়। তবে নিজের কাজের প্রচার নয়, বরং মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাকেই তিনি সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন।
আরেফিন খান রন্জু বলেন, “মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যে এক ধরনের আত্মিক শান্তি আছে। আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন, আমি চাই সেই সামর্থ্য দিয়ে সমাজ ও মানুষের উপকার করতে। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবতা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা প্রবাসে আছি, তাদের উচিত নিজের গ্রামের মানুষ ও সমাজের জন্য কিছু করা। কারণ শিকড়কে ভুলে গেলে মানুষ কখনো পূর্ণতা পায় না।”
গ্রামের প্রবীণ ও তরুণদের অনেকেই মনে করেন, আরেফিন খান রন্জু শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী বা শিক্ষাবিদ নন, তিনি একজন সত্যিকারের মানবিক মানুষ। তাঁর মতো মানুষ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন দীর্ঘদিন।
নিজের কর্ম, সততা ও মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে আরেফিন খান রন্জু আজ হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক উজ্জ্বল নাম।