কবি জয়ন্ত দেব ছিলেন তরুণ কবিদের উৎসাহদাতা
বগুড়া শহরেরর চেলোপাড়ার বাসিন্দা কবি, সম্পাদক, সংগঠক, জয়ন্ত কুমার দেব এর শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার ১০ জুলাই বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিকাল চারটা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, কবি জয়ন্ত দেব ছিলেন তরুণ কবিদের উৎসাহদাতা। তরুণ কবিদের সাহিত্যমুখি করে তুলতে পরামর্শ দিতেন, কবিদের জন্য সভা সেমিনারও করতেন। নিজের সংগঠন পাঠকপণ্য পাঠশলা থেকে লেখক উন্নয়নে কর্মসূচিও পালন করতেন। তিনি দেশিয়।সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে কাজ করে গেছেন। বগুড়ার সকল পর্যায়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতির কর্মীরা এই শোক সভার আয়োজন করে।
সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ কুমার সরকার। কবি সাংবাদিক এইচ আলিম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাকেন সংশপ্তক থিয়েটারের সভাপতি আব্দুল্লাহহেল কাফি তারা, সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান সুজন, এটিএন নিউজ বগুড়ার ব্যুরো প্রধান চপল সাহা, আনন্দকণ্ঠ বগুড়ার সভাপতি এবিএম জিয়াউল হক বাবলা, সাংবাদিক মহসীন রাজু, বগুড়া নাট্য দলের সভাপতি মীর্জা আহসানুল হক দুলাল, কবি ও প্রাবন্ধিক খৈয়াম কাদের, কবি প্রফেসর মীর আব্দুর রাজ্জাক, কবি মনজু রহমান, বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বকুল, জাতীয় কবিতা মঞ্চ বগুড়ার সভাপতি ফাতেমা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক সাদেক সোহাগ, সহ সভাপতি রওশন রোজী, উপদেষ্টা আমির খসরু সেলিম, কামরুন নাহার কুহেলি, বাংলাদেশ বইকিনি উৎসবের চেয়ারম্যান কবি মাহফুল আখতার, কুঁড়ি সম্পাদক আব্দুল খালেক, নাট্যজন খলিলুর রহমান চৌধুরি, আবু সাঈদ সিদ্দিকী, রোটা : মোস্তাফিজার রহমান , প্রকাশ শৈলীর সাধারণ সম্পাদক লুবনা জাহান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসস পল্লী শ্রীর প্রতিনিধি মাহমুদ মানিক, শহীদ খোকন পার্কের আড্ডার সঞ্জয় চক্রবর্ত্তি, কবি প্রভাষক আলমগীর কবির, বিহঙ্গ আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি ফজলে রাব্বি, রবিউল করিম হৃদয়, মাহফুজ সুইট, ঈমামুল হুদা বিপ্লব, কবি রাকিবুল হাসান। কবি জয়ন্ত দেবের কবিতা আবৃত্তি করেন সায়ন্তিকা আরাবি, আভা, প্রীতি দত্ত, সুজন প্রামানিক, অলোক পাল, মাহাবুব টুটুল, ফারজানা করিম, সাদমিন কলি, সাদিয়া আরেফিন, এমএ জাহিদ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিগন বক্তব্য রাখেন।পরিবারের পক্ষে কথা বলেন কন্যা পংক্তি দেব ও নিভা রানি সরকার। এসময় কবিপত্নী ছায়া দেব, পুত্র কাব্য দেব পাশে ছিলেন। কবি জয়ন্ত দেবের পুবের আড্ডার বন্ধু, স্কুলজীবনের, চাকুরিজীবনেরসহ কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শোক সভায় এক মিনিট নীরবতা পালন, শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিকথা, কবির কবিতা আবৃত্তি, বন্ধুজন, স্বজন, পরিবার, তার কর্মজীবনের সহকর্মীগণ, সাহিত্য সংস্কৃতির কর্মীবৃন্দ এতে বক্তব্য রাখেন।
পরিবার সুত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন দুপুরে ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে দুই দেশের আইনী প্রক্রিয়া শেষে ২৩ জুন ভোরে কবি ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দেবের মরদেহ বগুড়ায় নিজ বাসায় পৌঁছে। এই দিন সকাল সাড়ে ১০ টায় বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়া বেলতলা মহাশ্মশানে তার শেষ কৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬২ বছর।
চাকুরি জীবনে জয়ন্ত কুমার দেব বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ায় উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ও অবসর গ্রহণ করেন। জয়ন্ত কুমার দেব বগুড়ার বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকুরী করার পাশাপাশি সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি নিজে পাঠকপণ্যপাঠশালার সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে কাজ করেছেন। সাহিত্য চর্চা করতে গিয়ে তিনি ৭টি কবিতার বই প্রকাশ করেছেন। তার কাব্যগ্রন্থ করতোয়ার জল ছুঁয়ে বেড়ে উঠে বেহুলার ছেলে, সেই সময় বগুড়ায় বেশ পাঠকপ্রিয়তা পায়। লিটিল ম্যাগ দ্যুতি সম্পাদনা করেছেন নিয়মিত। তিনি দেশের সাহিত্য অঙ্গনে পরিচিত নাম। সাহিত্যকর্ম করতে গিয়ে বগুড়া শব্দ কথন সাহিত্য আসর, জাতীয় কবিতা মঞ্চ বগুড়া জেলা শাখা, শহীদ খোকন পার্কের আড্ডা, বগুড়া লেখক চক্র সহ একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি বগুড়া লেখক চক্রের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শহরের চেলোপাড়ার স্বর্গীয় নগেন্দ্রনাথ দেবের পুত্র। ব্যক্তি জীবনে তিনি স্ত্রী ছায়া দেব, কন্যা পংক্তি দেব ও পুত্র কাব্য দেবকে নিয়ে তার পরিবার ছিলো।
কবি জয়ন্ত দেব এর জন্ম ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৪, প্রয়াণ ২১ জুন ২০২৬ ইং কবি জয়ন্ত দেব এর কাব্যগ্রন্থ (১) করতোয়ার জল ছুঁয়ে বেড়ে উঠে বেহুলার ছেলে, (২) ‘ভাঙ্গা সেতারের সুর’ (৩) মনরূপ নিয়ে বাঁচে কবিতাকার, (৪) ভোর সঙ্গীত তোমাকে খুঁজেছে মনো মেঘের পাড়ে, (৫) জলে জ্বলে তিন নক্ষত্র, (৬) সংসার আগুন জল এই মাতালের নয়, (৭) গল্পের ছায়াগুলো (গল্প সংখ্য), (৮) সম্পাদনা দ্যুতি।