বগুড়ায় বারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আদালতে শুনানি, ৩ আইনজীবীকে শোকজ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪৪ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ১৩ বার।

বগুড়া জেলা এডভোকেটস্ বার সমিতির সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তিন আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বার সমিতির সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

 

শোকজ পাওয়া তিন আইনজীবী হলেন এডভোকেট রবিউল ইসলাম রুবেল, এডভোকেট গোলাম মোস্তফা (মজনু) ও এডভোকেট আব্দুল ওহাব।

 

বগুড়া জেলা এডভোকেটস্ বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বার সমিতির সাধারণ সভায় বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের আদালত বর্জন এবং ওই আদালতে মামলা শুনানি থেকে বিরত থাকার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।

 

তবে ওই সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২৩ সেপ্টেম্বর ২৪২৮/২০২৬ নম্বর ফৌজদারি মিস মামলার শুনানিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাসে অংশ নেন ওই তিন আইনজীবী। এ কারণে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

 

নোটিশে আরও বলা হয়, বার সমিতির সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর এডভোকেট গোলাম মোস্তফা (মজনু) সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মারমুখী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে কেন তাঁদের সদস্যপদ বাতিল করা হবে না, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে তার উপযুক্ত কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

 

 

শোকজ পাওয়া আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এডভোকেট আব্দুল ওহাব বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি একটি ফৌজদারি মিস মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, বার সমিতির আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত থাকলেও ওই দিন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আদালতে উপস্থিত থেকে বিচারককে এজলাসে বসিয়ে শুনানির অনুমতি দেন।

 

 

আব্দুল ওহাব আরও বলেন, ২০১৭ সালের রেজুলেশন অনুযায়ী কোনো আদালত বর্জনের আগে ৩০ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়ার বিধান রয়েছে। এবার সেটিও মানা হয়নি। এসব বিষয় বিবেচনা করেই তিনি শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। শোকজের জবাবে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন।

 

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা এডভোকেটস্ বার সমিতির সভাপতি এডভোকেট শেখ রেজাউর রহমান বলেন, ‘‘তাঁরা বারের নির্দেশ অমান্য করে বিচারকের পক্ষে কাজ করছেন। তাই বারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।’’