শাজাহানপুরে ছেলের শোক আর অর্থনৈতিক সংকটে পিতার চির বিদায়

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১৯ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলায় গ্যাসট্যাবলেট সেবন করে চির বিদায় নিলেন মানিক মিয়া(৪৬)। মঙ্গলবার(১৭ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাষ ত্যাগ করেন তিনি।  

 

পরিকল্পিত ভাবে পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় কারাগারে থাকা একমাত্র উপার্যেনক্ষম ছেলে বিপুল হাসান(২৬)’র শোক এবং ঋনের চাপে এই ঘটনা ঘটান বলে মানিকের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।  

 

 

মানিক মিয়া উপজেলার বেজোড়া দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। 

 

মানিকের ছোট ভাই মতিন প্রামনিক বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। পারিবারিক কলহের জের ধরে গ্যাসট্যাবলেট সেবন করে মানিক আত্বহত্যা করেছে বলে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে। 

 

সরেজমিনে মানিকের ছেলে বিপুল হাসানের স্ত্রী নুন আকতার রক্সি(২০) সহ পরিবারের অনেক সদস্য আজকের পত্রিকাকে বলেন, ৭জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বিপুল হাসান (২৬) এবং বিপুলের বন্ধু নাহিদ ইসলাম(২৪)’কে শাজাহানপুর থানার কৈগাড়ি ফাঁড়ি পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে ধরে নিয়ে যান। পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায় আদালতে তাঁদের চালান করেন। বিপুল কোন খারাপ কাজে কোনদিন জড়িত ছিলোনা। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় কোনদিন কোন অভিযোগও ছিলোনা। 

 

তিনি বলেন, এঘটনায় উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। পরবর্তিতে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১৯জানুয়ারি মহাসড়কের বনানী বাস স্ট্যান্ডে মানব বন্ধন করেন। ৮জানুয়ারি থেকে ১৮ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিপুল এবং নাহিদ জেল হাজতে রয়েছেন। বিপুল পরিবারের একমাত্র উপর্যানক্ষম ব্যাক্তি ছিলেন। 

 

নুন আকতার বলেন, ৩বছর বয়সের আমার একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। প্রায় ৪০দিন হলো বিপুল কারাগারে আছে। পরিবারের কোন আয় না থাকায় আমরা অর্থ সংকটে পড়েছি। মঙ্গলবার(১৭ফেব্রুয়ারি) শ্বশুর মানিক মিয়া আদালতে গিয়ে ছেলের জামিনের চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশের দেয়া এজাহারের কাগজ পড়ে এবং মামলার ব্যায় চালানোর সাধ্য না থাকায় বাড়ি ফিরে আমার শ্বশুর মানিক মিয়া অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। আমরা তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যু হয়। 

 

নুন আকতার আরো বলেন, ছেলে বিপুলের আয়ে মানিকের পুরো সংসার চলতো। প্রায় ৪০দিন ধরে বিপুল জেল হাজতে থাকায় সংসারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। একদিকে পুলিশের দেয়া মিথ্যা অভিযোগে মামলায় ছেলেকে জামিন করানোর খরচ অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটে আমার শ্বশুর দিশেহারা হয়ে এই কাজ করে থাকতে পারেন। 

 

জানতে চাইলে শাজাহানপুর থানার ওসি মোঃ তৌহিদুল ইসলাম  বলেন, মানিক মিয়া ঋনগ্রস্থ্য ছিলেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়াকরে গ্যাসট্যাবলেট সেবন করে আত্বহত্যা করেছেন।