নীলসাগর লাইনচ্যুত: ভোগান্তিতে যাত্রীরা, তদন্তে কমিটি
স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ার সান্তাহারে রেল দুর্ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে সান্তাহার সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর ট্রেনটি সান্তাহার জংশন স্টেশনের বাগবাড়ী দক্ষিণ পাড়ায় স্থানে পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আহতদের উদ্ধার কাজ চলমান রেখেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার স্টেশন সংলগ্ন বাগবাড়ীতে রেললাইনের কাজ চলছিল। কিন্তু কিছু বুঝে উঠার আগেই নীল সাগর ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ৬২ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে। এর আগে অনেক যাত্রী নিজ নিজ উদ্যোগে চলে গেছে। তবে নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছে না কতো যাত্রী আহত হয়েছেন। ট্রেনের ছাদে থাকা লোকজন পড়ে গিয়ে হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে আদমদীঘি ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণে।
স্থানীয়রা জানান, লাইন ভেঙে যাওয়ার কারণে খালাসীরা কাজ করছিল। তবে প্রায় হাফ কিলোমিটার দূরে উভয় পাশে লাল পতাকা দেওয়া ছিল; আর মিস্ত্রিরা এখানে রেললাইনে কাজ করছিলেন। কিন্তু ট্রেনটি লাল পতাকার ওখানে গতি কমায়নি।
সান্তাহার জংশন স্টেশনের অধীনে দায়িত্বে থাকা ওয়েম্যান সোহেল বলেন, ‘রেললাইন ভেঙে যাওয়ার কারণে কাজ চলছিল। কন্ট্রোল রুমে সিগন্যাল দেওয়া আছে। তারপরও লাল ব্যানার দেওয়া থাকে। সিগন্যাল ও লাল ব্যানার উপেক্ষা করে ট্রেনটি এসে দুর্ঘটনায় পড়ে। এমনকি হাতের সিগন্যালও মানেনি চালক।’
সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। ট্রেনের ছাদে অনেক মানুষ থাকায় ছাদ থেকে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন। বগিগুলো উদ্ধারের জন্য কাজ চলছে।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার আবু জার গাফফার বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনায় হাসপাতালে বর্তমানে ২০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরমধ্যে ১০ জনের হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন ৪০ জন।
সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন মুঠোফোনে বলেন, কীভাবে এটা হলো এখন বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দ্রুত উদ্ধার কাজ শেষ করা হবে। ট্রেনচালক পলাতক বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে। একইসঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইন সচল করার কাজ চলছে।