নওগাঁর পোরশায় মারপিট করে অস্ত্রের মুখে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ ১৯:৫৮ ।
প্রতিবেশী জেলা
পঠিত হয়েছে বার।

নওগাঁর পোরশায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে জোরপূবক আশরাফুল আলম নামে এক ব্যাক্তিকে উঠিয়ে নিয়ে মারপিট করে অস্ত্রের মুখে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আশরাফুল আলম এর অভিযোগ একই এলাকার বাবু, সুমন ও মেসবাউল এর নেতৃত্ব ১৫/২০ জনের একটি দল এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে এর প্রতিকার চেয়ে আশরাফুল আলম বুধবার বিকেলে নওগা শহরের একটি রেস্তোরায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তবে আশরাফুল আলম বলেন, গত ১১ মে বিকেলে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পোরশা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যান তার মায়ের জমির দলিল সংশোধনের কাজে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সুমন নামের একজন তাকে অফিসের বাইরে ডেকে নেয়। পরে বাবু, তার ভাই মেসবাহুল ও সুমনসহ আরও ১৫ থেকে ২০ জন তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে একটি গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অ১০০ টাকার তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্প পেপারে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

আশরাফুল আরও বলেন, খবর পেয়ে তার ভাই ট্রিপল নাইনে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু পুলিশের সামনেও তাকে মারধর করা হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্তদের দাবি মেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন| আশরাফুল বলেন ২০০৮ সালে নিতপুর পূর্ব দিয়াড়াপাড়া এলাকায় ইটভাটার জন্য ১ দশমিক ৫৮ একর জমি মেসবাহুল ও বাবুর কাছে ১৭ লাখ টাকায় জমি ভাড়া দেন। পরে মেসবাহুল গংরা অন্য একজনের কাছে জমি ভাড়া দিলে সেই ব্যক্তিও আশরাফুলকে ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন। এরআগে মেজবাউল ও বাবুর নিকট সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। পাল্টা এখন অভিযুক্তরা আমার নিকট ১৭ লাখ টাকা দাবি করছেন এবং জমি লিখে নিতে চাপ দিচ্ছেন। থানা পুলিশকে বলেও কোন কাজ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে আমি গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়েছি। আপনাদের মাধ্যমে আমি ন্যায় বিচার দাবি করছি।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. বাবু বলেন, তার ভাই মেসবাহুল ইটভাটা করার জন্য আশরাফুলের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়েছিলেন। পরে আশরাফুল ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে জমি লিখে দিতে রাজি হন। সেই টাকা দেওয়ার পরও তিনি জমি লিখে দেননি এবং টাকা ফেরতও দেননি। এ নিয়ে আগে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। ঘটনার দিন আলোচনার জন্য তাকে আনা হয়েছিল। তবে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কয়েকজন যুবক তাকে চড়-থাপ্পড় মেরেছে বলে স্বীকার করেন বাবু।

এ বিষয়ে পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, একজনকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ কাউকে আটক অবস্থায় পায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে টাকা-পয়সা ও জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তাদের থানায় ডাকা হয়েছিল, তবে তারা নিজেরাই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।