ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের ৪৭ প্রত্নবস্তু নিয়ে বিতর্ক, গঠিত হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ টিম

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ ১৮:৩৪ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

ফ্রান্সের গীমে (Guimet) মিউজিয়ামে ২০০৭ সালে প্রদর্শিত মহাস্থান জাদুঘরের প্রত্নবস্তুর সঠিকতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের প্রত্ননিদর্শন প্রদর্শনীর জন্য মহাস্থান জাদুঘর থেকে ফ্রান্সে পাঠানো এবং প্রদর্শনী শেষে দেশে ফেরত আসা প্রত্নবস্তুর সত্যতা ও সঠিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে ফ্রান্সে প্রদর্শনীর জন্য মহাস্থান জাদুঘর থেকে ৪৭টি প্রত্নবস্তু পাঠানো হয়। পরে সেগুলো দেশে ফেরত এলেও কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞ যাচাই ছাড়াই মহাস্থান জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়।

 

এর মধ্যে মাত্র ৩ থেকে ৪টি প্রত্নবস্তু জাদুঘরের প্রদর্শনী কক্ষে রাখা হয়েছে। বাকি অধিকাংশ প্রত্নবস্তু দীর্ঘদিন ধরে জাদুঘরের স্টোররুমে সংরক্ষিত রয়েছে। এসব প্রত্নবস্তুর সত্যতা ও অখণ্ডতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা চলছিল।

 

বিষয়টি সম্প্রতি শিবগঞ্জ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপিত হলে কয়েকজন সদস্য তা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির নজরে আনেন। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রতিমন্ত্রী দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তাঁর নির্দেশনায় তদন্ত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

গঠিত টিমের আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক ও অধ্যাপক ড. মো. মোকাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া। এছাড়া সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সহযোগী অধ্যাপক কামরুন নেছা খন্দকার।

 

৩ জুন ২০২৬ তারিখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার স্বাক্ষরিত জারি করা এক চিঠিতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। চিঠিতে গঠিত টিমের কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞ টিমটি মহাস্থান জাদুঘরে সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট প্রত্নবস্তু পরিদর্শন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রত্নবস্তুগুলোর সত্যতা, সংরক্ষণ অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।