বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন মরণ ফাঁদ: ১০ দিনে কাহালুতে নিহত ১৪ জন
মুনসুর রহমান তানসেন
বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন চলাচলের কারণে গত ১০ দিনে শুধু কাহালু উপজেলার সীমানার মধ্যেই প্রাণ ঝরেছে ১৪ জনের! এবং আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।
স্থানীয় লোকজনের মতে, প্রতিনিয়ত এই সড়ক দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ জেলায় যাত্রীবাহী বাস, কোচ, মালবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটোসহ হাজারো যানবাহন চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এই বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের দু’পাশে গড়ে ওঠা ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালপত্র আনা-নেওয়া করার ফলে প্রতিদিনই থাকে এই সড়কে অধিক যানবাহনের চাপ। ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামনে দিনরাত সারাক্ষণই সারি সারি বড় বড় ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ট্রাকগুলো নির্দিষ্ট কোন জায়গায় না রেখে এই সড়কের উপরেই রাখে। এছড়াও চালকেরা অনিয়ন্ত্রিতভাবে চালায় তাদের যানবাহন। যার ফলে দিন যতই যাচ্ছে, ততই এই সড়কটি এক মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কের উপর রাখা ট্রাকের কারণে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কে তেমন কোনো শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্যেই দেখা গেছে, গত ২৫ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের কাহালু উপজেলার পোড়াপাড়া থেকে বারমাইল এলাকার মধ্যে কয়েকটি দূর্ঘটনায় ১৪ টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। বুধবার (৩ জুন) আবারও এই সড়কের কাহালু উপজেলার দরগাহাট এলাকায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে অটোরিকশাচালকসহ তিনজন গুরুত্বরভাবে আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। নিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন চলাচলে তেমন কোনো প্রদক্ষেপ না থাকায় প্রায় প্রতিদিনই এই সড়কে ঘটছে ভহাবহ দূর্ঘটনা।
এব্যাপারে কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, এই সড়কে যানবাহনের অনেক বেশি চাপ, বেপোয়ারাভাবে যানবাহন চলাচল ও রাস্তায় ডিভাইডেড না থাকার কারণে এই দূর্ঘটনাগুলো ঘটছে। যেহেতু এই সড়কে অনেক বেশি যানবাহন চলাচল করে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি চার লেনের করা হলে দূর্ঘটনা তেমন ঘটবেনা মনে করা হচ্ছে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ট্রাফিক পুলিশের কাজ হলেও আমাদের এলাকার মধ্যে ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করি যাতে সড়কে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।