মানবিক সংস্থা মুনলাইটের উদ্যোগে প্রতিদিন দুপুরে শহরের সাতমাথায় গরম খাবার বিতরণ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৭:১৮ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

মানবিক সংস্থা মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি বগুড়া শহরের সাতমাথায় এতিম, প্রতিবন্ধী, ছিন্নমূল, রিক্সা শ্রমিক ও ক্ষুধার্ত পথচারীদের মাঝে প্রতিদিন দুপুর বেলা গরম ভাত খাওয়াচ্ছে। পুষ্টির চাহিদা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে ভাতের সাথে সংস্থার অর্গানিক বাগানে চাষকৃত বিষমূক্ত সবজি, বড় মাছ, ছোট মাছ, ডিম, মুরগির মাংস, গরুর মাংস ও শুটকি মাছের তরকারি খাওয়ানো হয়। ২০২১ সালের ১৬ই জুন থেকে প্রতিদিন দুপুরে এই খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ জিয়াউল হক এই খাবার বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

করোনাকালের শুরুতে কর্মহীন প্রতিবন্ধী, অসহায় ও ছিন্নমুল দুস্থ মানুষের মাঝে এই খাবার বিতরণ শুরু করা হয়। অসহায় ছিন্নমুল মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আজ পর্যন্ত এই খাবার বিতরণ চালু রাখা হয়েছে।

সাতমাথায় খাবার নিতে আসা এই অসহায় মানুষদের নিয়ে প্রতিবছর ফল উৎসব করা হয়। প্রতিবছর তাদের মৌসুমী ফল আম, কাঁঠাল, লিচু ও লটকন খাওয়ানো হয়। 

বছরের দুই ঈদের দিনে তাদের পোলাও ও গরুর মাংশের ভূনিয়া খাওয়ানো হয়। 

কোরবানি ঈদে ওদের জন্য গরু কোরবানি করে মাংশের প্যাকেট বিতরণ করা হয়। প্রতি বছরের রমজান মাসে তাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে মাসব্যাপী ইফতার করানো হয়।

প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড তাপদাহে পিপাসায় কাতর মানুষদের ঠান্ডা শরবত খাওয়ানো হয়। 

প্রতিবছর শীতকালে প্রচন্ড ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাতমাথায় খাবার নিতে আসা দরিদ্র মানুষদের মাঝে গরম কাপড় হিসেবে কম্বল ও হুডি সোয়েটার বিতরণ করা হয়। শীতের দিনে খালি পায়ে খাবার নিতে আসা অসহায় মানুষদের সেন্ডেল ও মুজা প্রদান করা হয়।

সাতমাথায় মাঝে মাঝে খাবার নিতে আসা দরিদ্র রিক্সা শ্রমিক ওয়াহাব বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮ টায় বিভিন্ন গ্যারেজ থেকে রিক্্রাভাড়া নিয়ে হোটেলে দুইুটি পরোটা খেয়ে বের হই। দুপুরবেলা গরম ভাত খাওয়ার জন্য কমপক্ষে ৯০-১০০ টাকা খরচ হয়। এই হিসেবে মাসে আমার অনেক টাকা খরচ হয়ে যেতো।

আমি শহরের আশেপাশে যেখানেই থাকি দুপুর হলেই সাতমাথায় ছুটে আসি গরম ভাত খাওয়ার জন্য। মুনলাইটের দেয়া এই খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এখানকার খাবারে টাটকা সবজি, মাছ, মাংস,ডিম সবই থাকে। সাতমাথায় খাবার খেয়ে মাসে আমার প্রায় ৩ হাজার টাকা বেঁচে যায়। এই টাকা আমি আমার পরিবারে খরচ করি। 

সাতমাথায় খাবার নিতে আসা ঠনঠনিয়া এলাকায় বসবাসকারী জাহানারা (৬০) বলেন, সারাদিন শহরে ভিক্ষা করি, যা পাই তা দিয়ে কোনভাবে দিনচলে। সকালে বাসিভাত খেয়ে বের হই, বিভিন্ন মানুষের নিকট ঘুরে ঘুরে সাহায্য নেই। দুপুরবেলা বাসাবাড়ি বা হোটেলে কেউ একমুঠো ভাত খেতে দেয় না। সারাদিন না খেয়ে ঘুড়ে বেড়াতাম।

এখন দুপুর হলেই সাতমাথায় এসে লাইনে দাড়াই। মুনলাইটের দেয়া গরম খাবার পাই। দীর্ঘদিন ধরে এখানে খাবার খাচ্ছি। এখানে ভাতের সাথে মাছ, মাংস,ডিম ও সবজি দেওয়া হয়। এখানকার খাবার খুব মজাদার। মুনলাইট থেকে আমাকে টিফিন বাটি দেওয়া হয়েছে। এই বাটি নিয়েই আমি এখানে খাবার নিতে আসি। 

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি এখানে যারা খাবার বিতরণ করে তারা যেন ভালো থাকেন।

শুধু জাহানারা আর ওয়াহাব নয় খাবার নিতে আসা প্রকিটি অসহায় মানুষের আকুল আবেদন, এই খাবার বিতরণ যেন কখনই বন্ধ না হয়ে যায়।