নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দুইদিনব্যাপী বগুড়া সাহিত্য উৎসবের সমাপনী
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ও তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে বগুড়ায় দুইদিনব্যাপী ‘বগুড়া সাহিত্য উৎসব-২০২৬’ শেষ হয়েছে। দেশের অর্ধশত জেলার কবিদের নিয়ে বগুড়া সাহিত্য উৎসবের আয়োজন করে জাতীয় কবিতা মঞ্চ, বগুড়া শাখা। বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বগুড়া সাহিত্য উৎসব শেষে কবিতা ভ্রমনের মধ্যে দিয়ে রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উৎসবের সমাপনী হয়। সর্বশেষ কবি হিসেবে রাঙামাটি জেলার মলয় ও ইন্টুকে বিদায় দেয়ার মধ্যে দিয়ে সকল কবি বগুড়া থেকে নিরাপদে ঘরে ফিরেছেন।
২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সারাদেশের প্রায় ৩০০ জন কবি-সাহিত্যিকের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য এই উৎসব শুরু হয়।
বগুড়া সাহিত্য উৎসব ২০২৬-এর আহ্বায়ক ও বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। শনিবার বিভিন্ন জেলার শতাধিক কবিদের নিয়ে কবিতা ভ্রমণ , আলোচনা সভা, ও কবিতা পাঠের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। রবিবার রাতে কবিদের বগুড়া থেকে বিভন্ন জেলায় ফিরে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে দুইদিনব্যাপী বগুড়া সাহিত্য উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবি ও শিক্ষাবিদ বজলুল করিম বাহার, কবি ও প্রাবন্ধিক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ এবং খৈয়াম কাদের, বাংলা একাডেমির উপ পরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজ, জাতীয় কবিতা মঞ্চের সিনিয়র সহ সভাপতি মনজু খন্দকার, সহ সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন খান। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবিতা মঞ্চ বগুড়া শাখার সভাপতি ফাতেমা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক হোসেন শুরুতে বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি ও সাংবাদিক এইচ আলিম। দেশের ৫৭টি জেলা থেকে আগত প্রায় ৩০০ জন কবির অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য এই উৎসবের আয়োজন করে জাতীয় কবিতা মঞ্চ, বগুড়া শাখা। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় কবিতা মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রয়াত সভাপতি, কবি ও গবেষক মাহমুদুল হাসান নিজামী ও কবি জয়ন্ত দেব এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ৩০ সেকেন্ড নীরবতা পালন করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল তরুণ কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর, আবৃত্তি, কবি আড্ডা এবং 'তরুণ কবি সৃষ্টিতে লিটলম্যাগের ভূমিকা' নিয়ে আলোচনা, এছাড়া অনুষ্ঠানে জাতীয় কবিতা মঞ্চ বগুড়ার মুখপত্র ও সাহিত্যের ছোট কাগজ ‘কাঠপত্র-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গণস্বাস্থ্য হোমিও, ঢাকার অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ার
বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও খৈয়াম কাদের, বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ মিয়া, জাতীয় কবিতা মঞ্চ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি, মনজু খন্দকার, জাতীয় কবিতা মঞ্চ সহ-সভাপতি, মো: আমজাদ হোসেন খান, সমন্বয়ক কবি লিপি আক্তার, কবি ও শব্দকুঠি সম্পাদক রোকসানা রহমান, নোঙর সভাপতি হাসানুজ্জামান, উত্তরণ, পাবনার সভাপতি আলমগীর কবির হৃদয়, কবি নিলুফা জামান, দিনাজপুর লেখক ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক, অদিতি রায়।
প্রাচীন সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রাচীন নগরী বগুড়ায় আয়োজিত এই উৎসব তরুণদের মেধা ও মনন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উৎসবের আহবায়ক কালাম আজাদ বলেন, তরুণরা বাংলাদেশ নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের কল্যাণে শিল্প, সংস্কৃতিরও বিকাশ ঘটেছে। সমাজে মানবিকতার আরো ফুল ফোটাতে হবে। এজন্য সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
উৎসবের সদস্য সচিব এইচ আলিম জানান, "আমাদের এই সাহিত্য উৎসবের লক্ষ্য হচ্ছে যারা তরুণ রয়েছে, যারা নবাগত হিসেবে নতুন কবিতা লিখছে, তারা লেখার মধ্য দিয়ে সবখানে মানবতার আলো ছড়িয়ে দেবে। এই মানবিক চেতনা ছড়িয়ে গেলে আমাদের বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।"
অনুষ্ঠানে দেশের ১১টি সাহিত্য সংগঠনকে সম্মাননা জানানো হয়। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে নোঙর, উত্তরণ পাবনা, দিনাজপুর লেখক ফোরাম, জয়পুরহাট সাহিত্য সংসদ, গাইবান্ধা নারীমঞ্চ সাহিত্য পরিষদ, শেরপুর সাহিত্য চক্র, মনন সাহিত্য সংগঠন, ফিরে দেখা, আস সুফিয়া সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ, উদয়ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি, নওগাঁ, বৃহস্পতির আড্ডা, শব্দকুঠি। শেষে বগুড়ার নামী গানের দল দলঅন্যরকমের পরিবেশনা সকলকে মাতিয়ে রাখে। কবিতা ভ্রমণ করা হয়, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ির শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর বাসভবন, মমইন ইকো পার্ক, ও মহাস্থানগড়।