শজিমেকে কর্মবিরতি স্থগিত করে কাজে ফিরেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:১৬ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি স্থগিত করে কাজে ফিরেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

 

শনিবার সকাল ৯টার দিকে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মুর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

তিনি বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

 

দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক আনসার সদস্যকে বরখাস্ত এবং আনসার কমান্ডারসহ ২০ জনকে বদলি করার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।

 

এরপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবিতে ওই রাত থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এতে বহির্বিভাগসহ হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়।

 

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা মামলায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তাঁদের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক আনসার সদস্যকে বরখাস্ত এবং আনসার কমান্ডারসহ ২০ জনকে বদলি করা হয়।

 

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে বৈঠক হয়। পরে প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের পর সাময়িকভাবে কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

 

 

ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ বলেন, দাবিগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা সাময়িকভাবে কাজে যোগ দিয়েছি। পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে চিকিৎসাসেবা চালু থাকবে। অন্যথায় পরবর্তীতে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এদিকে শজিমেক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও পরিচিতদের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

 

 

এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

 

এ ঘটনায় ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৩০ থেকে ৪০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসককে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় লিখিত এজাহারও দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।