মুনলাইটের আয়োজনে প্রবীণ ভাতা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ ১৫:৫২ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ১৯ বার।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া অসহায় প্রবীণদের মুখে স্বস্তির হাসি। আর মেধাবী শিক্ষার্থীদের চোখে নতুন স্বপ্নের দীপ্তি। কেউ পেলেন জীবনের শেষ প্রান্তে একটু সম্মানের স্পর্শ, কেউ পেলেন এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে মানবিক উন্নয়ন সংস্থা মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির আয়োজনে প্রবীণ ভাতা ও 'ল্যাব-৮৩' শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের শেরপুর রোডে সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভাতা ও শিক্ষাবৃত্তির অর্থ বিতরণ করেন বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

 

অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বগুড়া জেলা সমন্বয়কারী সুরাইয়া বাবলি, পেসড এর নির্বাহী পরিচালক রুমানা খাতুন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ ভাতা ও শিক্ষাবৃত্তি সমন্বয়কারী মোরশেদা বেগম আইভি, মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী সদস্য ওয়ালিউল ইসলাম বিটুল, মঞ্জুরুল হক টুটু।প্রবীণ ভাতাভোগীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাবেয়া খাতুন। শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্তদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লুবনা আক্তার জেলি। পরিচালনা করেন কাকলি খাতুন।

 

প্রধান অতিথি বলেন, একটি সমাজ তখনই মানবিক হয়ে ওঠে, যখন সেই সমাজ তার প্রবীণদের সম্মান দিতে শেখে এবং আগামী প্রজন্মের শিক্ষার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসে। মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে যে মানবিক কাজ করে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম মানুষদেরও এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্র্যাকের বগুড়া জেলা সমন্বয়কারী সুরাইয়া বাবলি বলেন, প্রবীণরা আমাদের জীবনের শেকড়। তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো মানে দেশের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়া।

উন্নয়ন সংস্থা পেসড নির্বাহী পরিচালক রোমানা খাতুন বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া শুধু অর্থ সহায়তা নয়, এটি তার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার একটি প্রয়াস। অন্যদিকে একজন প্রবীণের হাতে সম্মানজনক ভাতা তুলে দেওয়া তাকে এই বার্তাই দেয় যে, তিনি সমাজের কাছে এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

 

মুনলাইটের শিক্ষা বৃত্তি ও প্রবীণ ভাতা কর্মসূচির সমন্বয়কারী মোরশেদা বেগম আইভী বলেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমরা অসহায় প্র্রবীণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সরকারি সুবিধা পেলে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও বৃহৎ পরিসরে পরিচালনা করা হবে।

 

মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী সদস্য ওয়ালিউল ইসলাম বিটুল বলেন, সমাজের অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। একজন প্রবীণের দোয়া এবং একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

মনজুরুল হক টুটু বলেন, মুনলাইট কোন বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না শুধুমাত্র মানুষের সেবায় কাজ করছে।

 

প্রবীণ ভাতাভোগীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন রাবেয়া বেগম। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, বয়সের ভারে অনেক সময় নিজেকে একা মনে হয়। কিন্তু মুনলাইট আমাদের শুধু আর্থিক সহযোগিতাই করেনি, আমাদের সম্মানও দিয়েছে। এই ভাতা আমাদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। যারা আমাদের কথা ভেবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের উত্তম প্রতিদান দেন।

 

শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন লুবনা আক্তার জেলি। তিনি বলেন, এই শিক্ষাবৃত্তি শুধু অর্থ সহায়তা নয়, এটি আমাদের স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মুনলাইট যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার সাহস জোগাবে।

 

অনুষ্ঠানে ৬৩ জন অসহায় প্রবীণকে প্রবীণ ভাতা এবং ৩৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে 'ল্যাব-৮৩' শিক্ষাবৃত্তির অর্থ প্রদান করা হয়। প্রবীণদের মুখে স্বস্তির হাসি আর শিক্ষার্থীদের চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন এই দুইয়ের মিলনেই মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির এই আয়োজন।